1. live@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : news online : news online
  2. info@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : দৈনিক অনলাইন তালাশ পর্ব ২১ :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
উখিয়ায় বেশি দামে গ্যাস বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাত্রিকালে অভিযানে মোবাইল চোর চক্রের সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল উদ্ধার বরিশাল জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের উদ্যোগে বিজয়নগর থানা পুলিশের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, ১ মাদক কারবারী গ্রেফতার। 🔴 নিখোঁজ সংবাদ / সাহায্যের আবেদন 🔴 লামায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার তানোরে আনসার প্লাটুন কমান্ডার এর নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঋে শীতবস্ত্র বিতরণ উখিয়ায় ৮ এপিবিএনের অভিযানে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক উপজেলা কর্মচারী ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন চকরিয়ায় মোটর চুরি নিয়ে সংঘর্ষ: এক ব্যক্তির বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন, সাবেক চেয়ারম্যান আটক

রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় অপরাধী 

 আনিছুর রহমান
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

 আনিছুর রহমান

দেশে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু জটিল কারণ বিদ্যমান, যা চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো অপরাধকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, সুরক্ষা ও দায়মুক্তি: অনেক অপরাধী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগসাজশ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। রাজনৈতিক নেতারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেন, যা অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি করে। ফলে তারা নির্ভয়ে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, দখলদারিত্ব, এমনকি হত্যা পর্যন্ত ঘটাতে সাহস পায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসা, দখলদারিত্ব ইত্যাদি অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। এই অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও যায়, যা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। এতে অপরাধীরা রাজনৈতিক দলের জন্য অর্থ যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে এবং বিনিময়ে রাজনৈতিক সুরক্ষা পায়। দলগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য পেশীশক্তি ব্যবহার করে। অনেক সময় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বজায় রাখে। এতে অপরাধীরা দলের “কর্মী” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক রঙ পায়। দুর্বল আইনের শাসন ও বিচারহীনতায় ওরা প্রভাব খাটিয়ে মামলা ধামাচাপা দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুর্বল করে দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যও এর সাথে জড়িত থাকতে পারেন। ফলে অপরাধীরা শাস্তির ভয় পায় না। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সাক্ষী-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের উৎসাহিত করে। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা নতুন অপরাধী তৈরিতে ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক সময় অপরাধের ধরনে পরিবর্তন আসে। যেমন, আগের সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা নিষ্ক্রিয় হলেও নতুন সরকারের ছত্রছায়ায় নতুন অপরাধী গোষ্ঠী তৈরি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পূর্ববর্তী অপরাধীরাই খোলস বদলে নতুন পরিচয়ে সক্রিয় থাকে, কারণ তারা চাঁদাবাজির পদ্ধতি ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে অভিজ্ঞ। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বেকারত্বের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। জীবিকার তাগিদে অনেকে হতাশ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন তারা দেখে যে অবৈধ উপায়ে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা সম্ভব এবং রাজনৈতিক সুরক্ষা থাকলে শাস্তির ভয় একেবারেই কমে। তাই ওরা সহজ অর্থ উপার্জনের লোভে চাঁদাবাজি বা রাহাজানির মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের সুযোগ অনেককে আকৃষ্ট করে, বিশেষ করে যাদের কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। সমাজে অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা ভয় ও প্রতিবাদহীনতায় সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি ও রাহাজানির শিকার হয়েও অনেক সময় ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। “গা-সওয়া” হয়ে যাওয়া দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো অপরাধ চলতে থাকলে সমাজের একটি অংশ এটিকে অনেকটা “গা-সওয়া” করে ফেলে, যা অপরাধীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজদের সাথে যোগসাজশ এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় রাজনৈতিক চাপের কারণে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ই আগস্টের বিপ্লব (২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) পরবর্তী পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া “জুলাই বিপ্লব” (২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) এর পর অনেকে আশা করেছিল যে চাঁদাবাজি ও রাহাজানি কমে আসবে। তবে কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন করে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারি শুরু করেছে। পুরোনো চাঁদাবাজরাও খোলস বদলে নতুন পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে। এটি জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, যা আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এইসব কর্মকান্ডে সমাধানে রাজনীতিবিদদের মধ্যে অপরাধ দমনের দৃঢ় সদিচ্ছা থাকতে হবে এবং কোনো প্রকার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। এবং অপরাধীরা যে, দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে অপরাধে জড়িত হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে। সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধে চাঁদাবাজি ও রাহাজানির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় অপরাধী বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্বল আইনের শাসন, অর্থনৈতিক অসমতা এবং সামাজিক উদাসীনতা। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

উখিয়ায় ৮ এপিবিএনের অভিযানে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক জাহাঙ্গীর আলম-উখিয়া কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোর্টবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯০০ পিস ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৮ এপিবিএন)। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫৫ মিনিটে টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়কের কোর্টবাজার আলিমুড়া এলাকায় অবস্থিত ৮ এপিবিএনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৮ এপিবিএন সূত্র জানায়, এসআই (নি:) মোঃ নুর নবীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনার সময় সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। পরে আশপাশ থেকে আগত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে তল্লাশি করা হলে তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগের ভেতরে কালো রঙের পলিথিন থেকে ১৮টি লকযুক্ত এয়ারটাইট সাদা পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ৯০০ পিস অ্যামফিটামিন জাতীয় ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট পাওয়া যায়। আটক যুবকের নাম মোঃ আবদুল্লাহ প্রঃ মোঃ ওসমান (১৯)। তিনি বালুখালী-১ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৯ নম্বর ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ১১০১৫৬। তার পিতার নাম মৃত ইলিয়াস এবং মাতার নাম হালিমা খাতুন বেগম। উদ্ধারকৃত ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেটগুলো বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আটক আসামি ও জব্দকৃত আলামত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ৮ এপিবিএনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদক পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

© www.dainikonlinetalaashporbo21.com