হাসিনা সরকারের পতন হলেও এখনো চট্টগ্রাম বাইজিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন রুমা আক্তার সুচি, পারভিন, শেলীসহ তাদের গ্রুপের সদস্যরা—এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার ।
অপরদিকে, একই এলাকার একটি পরিবারের ১৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরও চট্টগ্রাম বাইজিদ এলাকায় রুমা আক্তার সুচি, পারভিন, শেলী, নার্গিস, বিলকিস, ফয়সাল, রাব্বি, একরাম, আবুল হোসেন, শিল্পী বেগম ও মণি আক্তারসহ তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কর্মকাণ্ড থামেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের আগে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে আবার ভিন্ন পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন কিছু ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত (সম্প্রতি নিহত) সরোয়ার বাবলার অনুসারী যুবদল নেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুচি–পারভিন–শেলী গ্রুপের কিছু সদস্য কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো জাতীয় পার্টি এবং আবার কখনো স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের সাথে কাছাকাছি অবস্থান করে বাজার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মামলাবাজি এবং জমি দখল–বেদখলের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়—এমন দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কিছুদিন আগে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ জানালে, অভিযোগ অনুযায়ী, সুচি–পারভিন–শেলী গ্রুপের সদস্যরা সরোয়ার বাবলার অনুসারীদের সহায়তায় একই পরিবারের ১৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি রাজনৈতিক মামলা করেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগের পরিবার এদিকে আবার মামলার বিষয় নিশ্চিত করেছেন এডভোকেট মো. আনোয়ার শাহাদাত চৌধুরী (নয়ন)।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তারা বলেছেন—একই পরিবারের ১৮ জন সদস্য সন্ত্রাসী হওয়া অসম্ভব; এটি ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’ বলে দাবি করেছেন তারা।
মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ৮ জনই নারী, এবং তাদের মধ্যে ৪ জন নারীর কোলে রয়েছে দুধের শিশু।
অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি—ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে তাদের নির্দোষিতা প্রমাণিত হবে। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ, ন্যায্য তদন্ত এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিউজ ডেক্স দৈনিক তালাশ চট্টগ্রাম