দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান, কক্সবাজার ০২ আসনে পুনরায় আলমগীর ফরিদ
হাফিজুর রহমান খান, স্টাফ রিপোর্টার (কক্সবাজার)::
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে ২৯৫ নম্বর ক্রমিকে থাকা কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনটির প্রার্থীর ঘর ফাঁকা ছিল। অবশেষে দীর্ঘ এক মাসের জল্পনা-কল্পনা ও স্নায়ুচাপের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে আসা ঘোষণাটি উপকূলীয় এই জনপদে ছড়িয়ে দিল নির্বাচনী উত্তাপ। দলের হাইকমান্ড যাচাই-বাছাই শেষে পুরোনো ও পরীক্ষিত সেনানী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদের হাতেই তুলে দিয়েছে ধানের শীষের টিকেট।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি আরও ৩৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যার অন্যতম চমক ছিল কক্সবাজার-২ আসনটি। এতদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে মহেশখালীর বড় মহেশখালী এলাকায় আলমগীর ফরিদের সমর্থকেরা যে আনন্দ মিছিল ও আতশবাজি উৎসব করেছেন, তা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অবদমিত উচ্ছ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ এই জনপদের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে তিনি সংসদে এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাঝে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও তিনি ছিলেন দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে সক্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে যখন বিরোধী দলের রাজনীতি করা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ, তখনো আলমগীর ফরিদ এলাকা-ভিত্তিক সংগঠন পুনর্গঠনে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপির স্থানীয় কার্যালয় পুনর্নির্মাণ থেকে শুরু করে দ্বীপ অঞ্চলের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো-সবত্রই ছিল তার সরব উপস্থিতি।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দলের এই সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের আবেগেরই প্রতিফলন। মহেশখালীর যুবদল নেতা নাজমুল ছিদ্দিক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফরিদ ভাই মাঠে নামলে মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পাশে আছি এবং নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সাধারণ কর্মীদের মতে, আলমগীর ফরিদের উন্নয়নধর্মী ভূমিকা এবং তরুণদের সংগঠিত করার দক্ষতা তাকে এই আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার-২ আসনে আলমগীর ফরিদকে মনোনয়ন দেওয়া বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত বিজয়। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে বিএনপিকে এমন একজনকে বেছে নিতে হতো, যার রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক ও সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্যতা। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক তারসাম্যে ফরিদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংগঠনিক প্রতিযোগিতায় তিনি অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। তার অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি এখানে ভালো ফলাফলের আশা করছে।
মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আলমগীর মুহামম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার জনগণের ভালোবাসাই আমার শক্তি, আমি এই মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই। তিনি আসন্ন নির্বাচনে এলাকা উন্নয়ন, দুর্যোগ-ঝুঁকিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন। একইসাথে তিনি সকল বিভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
দীর্ঘদিন পর কক্সবাজার-২ আসনে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে ধানের শীষ ওঠায় নেতাকর্মীদের মাঝে যে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে, তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, অভিজ্ঞতার ঝুলি আর তৃণমূলের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে আলমগীর ফরিদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কেমন চমক দেখান।