

সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মো:ছৈয়দুল করিম খান
চট্টগ্রাম মহানগরীর ত্রাস,কুখ্যাত মাদক সম্রাট এবং ‘বুইস্যা বাহিনী’র প্রধান শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যাকে (২৮) অবশেষে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭,শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন ফিনলে সাউথ সিটি এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে তাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়, তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ রেকর্ড ৪২টি মামলা রয়েছে
★**যেভাবে জালে ধরা পড়ল বুইস্যা**★
র্যাব সূত্র জানায়,দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়, গতকাল রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭-এর একটি চৌকস দল চান্দগাঁওয়ের ফিনলে সাউথ সিটি এলাকায় অভিযান চালায়, এসময় পালানোর চেষ্টা করলেও ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করা হয়,তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি লোড করা পিস্তল।
★**টর্চার সেল ও অন্ধকার সাম্রাজ্য**★
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বুইস্যা তার অপরাধ জগতের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে,নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার সংলগ্ন ‘দিগন্ত খাজা টাওয়ার’ ছিল তার অপরাধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু,সেখানে সে নিজস্ব ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলেছিল, কিশোর গ্যাং সদস্যদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে এই টর্চার সেলে নিয়ে আসত বুইস্যা, দাবিকৃত চাঁদা না দিলে সেখানে চলত পৈশাচিক নির্যাতন, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরদারি করতে তার নিজস্ব একটি তথ্য নেটওয়ার্কও ছিল,যার মাধ্যমে সে বারবার গ্রেফতার এড়িয়ে যাচ্ছিল।
★**টেম্পো বনাম বুইস্যা: রক্তক্ষয়ী আধিপত্য**★
চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ছিল ‘টেম্পো বাহিনী’ ও ‘বুইস্যা বাহিনী’র লড়াই,গত ২১ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলি হয়,ওই সময় ১১ জন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হলেও কৌশলে পালিয়ে যায় বুইস্যা, উল্লেখ্য, তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘টেম্পো বাহিনী’র প্রধান ইসমাইল হোসেন টেম্পোকেও পাঁচলাইশ এলাকা থেকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করেছে,দুই শীর্ষ নেতার পতনে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
★**ভাইরাল ভিডিও ও জনমনে আতঙ্ক**★
গত ৪ অক্টোবর বুইস্যার অন্যতম সহযোগী মুন্নার প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে,ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচলাইশ এলাকায় চাঁদার দাবিতে সে বীরদর্পে গুলি চালাচ্ছে,এই ঘটনার পর থেকেই বুইস্যা ও তার বাহিনীকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র্যাব।
★**র্যাবের ভাষ্য**★
র্যাব-৭-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান জানান,
বুইস্যা চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের একটি বিষফোঁড়া, মাদক কারবার, অস্ত্র ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে সে পুরো এলাকা জিম্মি করে রেখেছিল, তার বিরুদ্ধে থানায় ৪২টি মামলা থাকা প্রমাণ করে সে কতটা দুর্ধর্ষ,আমরা এই অপরাধী চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর।
গ্রেফতারকৃত শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা ভোলার দৌলতখান উপজেলার **মোহাম্মদ আলীর** ছেলে,সে বর্তমানে পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় বসবাস করছিল,গণমাধ্যম কর্মী সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার রিপোর্টার ★মো: ছৈদুল করিম খান প্রেস ব্রিফিং থাকা র্যাব সদস্য থেকে ওই সময় জিজ্ঞেস করেন শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা মাদকের সাথে কি তার পরিবার সংযুক্ত আছে কিনা তাদেরকে আইনের আওতায় আনবেন কিনা এবং কি তার থেকে কত পরিমাণ অবৈধ ব্যাংক ব্যালেন্স টাকা পয়সা আছে এই নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেবেন কিনা,,,?
এ বিষয়ে অবগত করেছে র্যাব তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।