লামায় আইনশৃঙ্খলা সভায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি, ডেভিল হান্টের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃমোরশেদ আলম চৌধুরী
লামা উপজেলায় সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও জুলাই আন্দোলনের নেতারা বলেন—এলাকায় এখনো নিষিদ্ধ ও পরাজিত শক্তির তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার ঘোষিত ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি উঠে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন সভায় বলেন, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেকবিলছড়ি এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব বৈঠকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে অস্ত্রধারী লোকজনের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে যদি গোপন সভা চলতে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাত ১০টার পর সব ধরনের রাজনৈতিক ও সন্দেহজনক মিটিং নিষিদ্ধ করা জরুরি।”
জুলাই ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এমদাদুল হক মিলন বলেন, “যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ একসময় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে রেখেছিল, তারা এখনো লামা এলাকায় সক্রিয়। সুযোগ পেলেই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে।” তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ঘোষণার আলোকে নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিরাপদ রাখতে ডেভিল হান্ট অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন না হলে জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করবেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর লামা উপজেলা আমির কাজী ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এক আওয়ামী লীগ নেতা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।
সভায় লামা সদর ও রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, চলতি মৌসুমে কৃষকরা নদী ও ঝিরির খুব কাছাকাছি তামাক চাষ করেছেন, যা নিরাপত্তা ও পরিবেশ—দুই দিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। তারা সন্ত্রাস দমনে রাতের বেলায় অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানোর দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হলে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট বিষয়ে সচেতন করতে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সচিব ও লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাজাহান কামাল বলেন, “ডেভিল হান্টসহ যে কোনো অপরাধমূলক তৎপরতা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা নাশকতার আভাস পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করছি।” তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
সভা শেষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নিজ নিজ দপ্তরের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।