সাংবাদিক আরাফাত সানিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে উখিয়ায় সাংবাদিক সমাজের মানববন্ধন
জাহাঙ্গীর আলম
দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার টেকনাফ প্রতিনিধি সাংবাদিক আরাফাত সানিকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতারের প্রতিবাদে উখিয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাংবাদিক সমাজ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে উখিয়া সদর স্টেশন চত্বরের শহীদ মিনারের সামনে উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া, অনলাইন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা অবিলম্বে সাংবাদিক আরাফাত সানির নিঃশর্ত মুক্তি, ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ (রবিবার) টেকনাফে যৌথবাহিনীর একটি অভিযানের সময় সাংবাদিক আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের অভিযোগ এনে তাঁকে আটক করা হয়। তবে পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক আরাফাত সানি পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে আসছিলেন। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন সংক্রান্ত একটি সংবেদনশীল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুতের জেরেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা আরও বলেন,
“সাংবাদিক আরাফাত সানি একজন সৎ, সাহসী ও পেশাদার সাংবাদিক। তিনি কখনো আপসকামী সাংবাদিকতা করেননি। সত্য প্রকাশের কারণেই আজ তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”
তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনা কেবল একজন সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন নয়, বরং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত সাংবাদিক আরাফাত সানির মুক্তি নিশ্চিত না করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
এ সময় সাংবাদিক আরাফাত সানির পরিবার ও তাঁর স্ত্রী বলেন, গ্রেফতারের আগে তিনি সেন্টমার্টিন বিষয়ক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করছিলেন। সেই প্রতিবেদন প্রকাশ ঠেকাতেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে জানান, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।