

সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার্স ছৈয়দুল করিম খান ,চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা রোড ও বিটাক বাজার এলাকা এখন সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে,রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে,এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পারভেজ দৈনিক তালাশ এর সম্পাদক,এ ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা,ও পাহাড়তলী তারাই অভিযোগ দায়ের করা হলেও সন্ত্রাসীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও হামলার ভয়াবহতা,
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিটাক বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে,ঘটনার দিন চাঁদা আদায়ের সময় সাংবাদিক পারভেজ এর প্রতিবাদ করেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান,এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদাবাজ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়,একজন কলমযোদ্ধার ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
জিম্মি বিটাক বাজার, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস,
সাগরিকা রোড ও বিটাক বাজার এলাকাটি বর্তমানে চাঁদাবাজদের দখলে,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আমরা এখানে ব্যবসা করতে এসেছি,কিন্তু প্রতিদিনের চাঁদা দিতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হচ্ছি, পুলিশ বা প্রশাসনের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না,সাংবাদিক ভাই প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলেন,ওই হামলার শিকারের কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেলেও ভর্তি হন, এবং চিকিৎসার শেষে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেন,এবং ব্যবসায়ীরা আরও বলেন এখন আমাদের নিরাপত্তা কোথায়???
**আদালতে মামলা ও থানায় অভিযোগ : গ্রেফতারের অপেক্ষায় ভুক্তভোগী
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে হও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে,আদালত ও থানায় বিষয়টি আমলে নিলেও আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরোক্ষভাবে হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে,আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সন্ত্রাসীদের এমন দম্ভ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেই ইঙ্গিত করে।
পুলিশের ভূমিকা ও আল্টিমেটাম,
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং আদালতের মামলা থাকার পরেও আসামিরা কেন গ্রেফতার হচ্ছে না—তা নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে,প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে চাঁদাবাজি চললেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিটাক বাজারের চাঁদাবাজ ও সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায়,পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং চাঁদাবাজদের মদদদাতাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে,মনে রাখতে হবে, অপরাধীর কোনো দল নেই, তাদের একমাত্র পরিচয় তারা সন্ত্রাসী।
পাহাড়তলী ও বিটাক বাজার এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পুলিশকে এখনই কঠোর হতে হবে,সাংবাদিক পারভেজের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে,এই জনপদ অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।