1. live@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : news online : news online
  2. info@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : দৈনিক অনলাইন তালাশ পর্ব ২১ :
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ ও পদোন্নতির নামে পুকুর চুরি চরম অনিয়মে ভেঙে পড়েছে চেইন অব কমান্ড নারীদের ক্ষমতায়ন অধিকার জনবান্ধব কার্যক্রমে বহুগুণী প্রচার বিমুখ:অ্যাড.ফরিদা আকতার  আলী হোসেন ফকির নবনিযুক্ত আইজিপি দায়িত্ব গ্রহণ গাজীপুর-৫ আসনের এমপি ফজলুল হক মিলনকে জামায়াতের ফুলেল শুভেচ্ছা জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত চট্টগ্রাম বায়েজিদে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির ইফতার মাহফিলে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুন্ডুমালা পৌরসভা ও বাঁধাইড় ইউনিয়নের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত।  হিজলায় ডিসির ‘নীরব সায়’ ও যোগসাজশে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন: মেঘনায় বিলীন হচ্ছে জনপদ।। কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ ও পদোন্নতির নামে পুকুর চুরি চরম অনিয়মে ভেঙে পড়েছে চেইন অব কমান্ড

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আশায় নতুন নেতৃত্ব আনা হলেও,বাস্তবে অনিয়ম ও দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, অভিযোগ উঠেছে,বোর্ডে এখন আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে লাগামহীন দুর্নীতি। বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মোঃ নূরুল হক এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ছালেহ আহমাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো পরিচালনা করছে।

গোপন নিয়োগ থেকে শুরু করে ১৪ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, যোগ্যদের বঞ্চিত করে পছন্দের ব্যক্তিদের পদোন্নতি এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল রেকর্ড শাখা অরক্ষিত রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই শীর্ষ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বোর্ডের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি,বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চেইন অব কমান্ড,পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

**গোপনীয় নিয়োগ ও চরম স্বজনপ্রীতি**
সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে বহুল প্রচারিত দুটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি গত ১৮ জানুয়ারি বোর্ডের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য প্রকাশ না করেই সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে ৩ জন গাড়িচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে গত বছরের ১৪ নভেম্বর দৈনিক নতুন আশা’ নামক একটি নামসর্বস্ব ও অখ্যাত পত্রিকায় নামমাত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়,যা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ জানতই না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে,এই নিয়োগে চরম স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে,নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মোঃ সাকিব আহমেদ স্বয়ং রেজিস্ট্রার ছালেহ আহমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং মোঃ আকাব্বর মজুমদার বর্তমান চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক।

**পদোন্নতিতে বৈষম্য ও পছন্দ-অপছন্দ নীতি**
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও চলছে চরম বৈষম্য,রেজিস্ট্রারের ঘনিষ্ঠ সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ মিজানুর রহমানকে সুবিধা দিতে বিশেষ নিয়মে ১২ জন উচ্চমান সহকারীকে ভুতাপেক্ষ (retroactive) পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে,কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই মোঃ আবুল কালাম ও মোঃ আলতাব হোসেনসহ অন্তত চারজন দক্ষ কর্মীকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এমনকি, চেয়ারম্যানের পিএ জুবায়ের আলম এবং ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের ঠিকই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

**নিয়ম ভেঙে চেয়ারম্যানের একচ্ছত্র আধিপত্য**
সাধারণত বোর্ডের অধীনস্থ কর্মকর্তারা মাদ্রাসা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেন এবং চেয়ারম্যান তা অনুমোদন করেন, কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান নিজেই দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য পরিদর্শনে যাচ্ছেন,নিজেই প্রতিবেদন তৈরি করছেন এবং সভাপতি হিসেবে নিজেই তা অনুমোদন করছেন!ফেনী, রাজশাহী,বগুড়া,সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি মাদ্রাসায় তিনি এভাবে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন করেছেন।

**১৪ কোটি টাকার অনিয়ম ও অরক্ষিত রেকর্ড শাখা**
বোর্ডের আইটি খাতের পরামর্শক মাহফুজ মুর্শেদের বিরুদ্ধে ফাজিল ও কামিল পরীক্ষার ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ খাতে প্রায় ১৪ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে,এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে অডিট আপত্তি এবং তার ব্যক্তিগত ফাইলে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কেবল রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সখ্য থাকার কারণে তাকে বছরের পর বছর চুক্তিতে বহাল রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো,বোর্ডের অত্যন্ত সংবেদনশীল সনদ বা রেকর্ড শাখাটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সেখানে নিয়মিত কর্মকর্তাদের বদলে দৈনিক মজুরিভিত্তিক বহিরাগত কর্মচারী দিয়ে মূল রেকর্ড বই নাড়াচাড়া ও সংশোধনের কাজ করানো হচ্ছে, এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

**নেপথ্যের সিন্ডিকেট ও কর্মকর্তাদের ক্ষোভ**
অনুসন্ধানে জানা যায়,এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটটি মূলত নিয়ন্ত্রণ করছেন চেয়ারম্যানের পিএ জুবায়ের আলম,সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ মিজানুর রহমান, সেকশন অফিসার নাসির উদ্দিন মোল্লা এবং অফিস সহকারী আশিকুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে,এই জুবায়ের আলমের কথাই বোর্ডের শেষ কথা এবং তার অঙ্গুলী হেলনেই চলেন চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, “জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে পুরনো কর্মকর্তাদের সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়,কিন্তু জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত এই চেয়ারম্যান নিয়োগ পেয়েই প্রতি পদে পদে দুর্নীতির ছাপ রাখছেন।

**কর্তৃপক্ষের বক্তব্য**
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মোঃ নূরুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ছালেহ আহমাদ অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন,আমরা বিধি মেনেই নিয়োগ দিয়েছি। পত্রিকায় এবং আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
তথ্যচিত্রে 24 CITIZENJOURNAL24.COM
কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ‘আশার আলো’ পত্রিকার নাম বলেন,এমন কোনো পত্রিকা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি সুর পাল্টে বলেন,নাম ভুল হয়েছে, একটি জাতীয় দৈনিক দৈনিক নতুন আশা’ নামের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে,বোর্ডের ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তড়িঘড়ি করে বলেন,সেই সময়ে দেওয়া হয়েছিল,পরে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে,জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন জঘন্য অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি অব্যাহত থাকলে সংস্কারের মূল লক্ষ্যই ব্যাহত হবে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পদে বহাল থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। তাই অবিলম্বে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© www.dainikonlinetalaashporbo21.com