
মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদ
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় দুর্গম আলীকদম–থানচি সড়কে ৩৩ কিলোমিটার অংশের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি)।৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আলীকদম–থানচি রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে সড়কের মেরামত কাজ।
পাহাড়ি এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থাকায় যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ত।
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক বাইকার রাশেদ মাহমুদ বলেন,গত বছর যখন থানচি ভ্রমণে এসেছিলাম, তখন আলীকদম–থানচি সড়কের অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত ছিল। এবার এসে দেখলাম রাস্তার অবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। এখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল অনেক স্বস্তিদায়ক।”
পর্যটকবাহী জীপচালক মোঃ জাকির হোসেন জানান,আগে সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকদের অনেক ঝুঁকি নিতে হতো।
তিনি বলেন,“সড়কটি সংস্কার হওয়ায় এখন গাড়ি চালানো অনেক সহজ হয়েছে। সামনে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।ঠিক সময়মতো এই কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পর্যটক ও চালক সবাই উপকৃত হবে।”
থানচি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামবাসী চংয়াং ম্রো জানান,সড়ক সংস্কারের সময় স্থানীয়দের অনুরোধে তাদের গ্রামের পাশে একটি স্পিডব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“আগে দ্রুতগতির গাড়ির কারণে গ্রামের শিশুদের চলাচলে ভয় লাগত।এখন স্পিডব্রেকার হওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলে, এতে আমাদের জন্য অনেক নিরাপদ হয়েছে।”
১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে এটি সমতলের নতুন কোনো সড়কের মতোই মসৃণ মনে হয়।স্থানীয় জনগণ, পর্যটক এবং পরিবহন চালকদের সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাঁরা আরো জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনসাধারণের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য যে সড়কটির উন্নয়নের ফলে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে আলীকদম–থানচি সড়কে যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।