1. live@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : news online : news online
  2. info@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : দৈনিক অনলাইন তালাশ পর্ব ২১ :
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সুবর্ণচরে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব : প্রশাসন নীরব স্বেচ্ছাচারিতায় রাজস্ব বঞ্চিত ২ দশক পর অবৈধ সম্রাজ্যের পতন! প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আধিপত্য মুক্ত জনস্বার্থে নৌ-পুলিশের প্রধানসহ ৫ অতিরিক্ত আইজিপি বাধ্যতামূলক অবসরে র‍্যাব হত্যা সন্ত্রাসী আস্তানা নির্মূলে জঙ্গলসলিমপুর ছিন্নমূলে প্রশাসনের যৌথ অভিযান  ইপসা’র আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত,দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর সক্রিয় ভূমিকা জরুরি: মেয়র শাহাদাত এতেকাফ শব্দটি আরবি। এর অর্থ অবস্থান করা। কালীগঞ্জে ছাত্রদল নেতা প্রিন্সের পিতার দাফন সম্পন্ন তানোরে তুলার গুদামে আগুন, সব পুড়ে শেষ।  মিঠাপুকুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা।  কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভা

সুবর্ণচরে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব : প্রশাসন নীরব স্বেচ্ছাচারিতায় রাজস্ব বঞ্চিত

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাতে চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের নিরব সমর্থন এবং নামমাত্র “ম্যানেজমেন্ট”-এর আশীর্বাদে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করছেন। সবকিছু হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, খোদ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কটির পাশে ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৩০৩ নং চরমজিদ মৌজার খাস খতিয়ানের আন্দরে ২১৪৬ দাগে সড়কের অংশে ০.৭২ একর ভূমিতে ভূঞারহাট এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে।

 

উক্ত দাগে যেটুকু বাকি আছে সেটাও দখল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে জনবসতি সংলগ্ন খাসজমি গুলোতে এখন একের পর এক দখল অভিযানে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। উল্লেখ্য পূর্বে উক্ত ভূমিতে অবৈধ খাস জমি দখলের কারণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট দেবাশীষ দাস কর্তৃক খাস জমি হইতে অবৈধ স্থাপনায় গড়ে উঠা ২০টি দোকানঘর গুড়িয়ে দেন। পূর্বের উচ্ছেদ অভিযানের একটি কপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

 

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট কেউ আবার মিথ্যা তথ্যে দিয়ে নিজেদের ভূমিহীন দাবি করে, কেউ আবার নিজেদের নিকট আত্নীয়স্বজন, রাজনৈতিক দলের কর্মী- সমর্থকদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূমিহীন সনদ নেন। এরপর নামে-বেনামে একসনা বনধোবন্ত নথি সৃজন করে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ঘর তুলে মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন।

 

এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত নামধারী ভূমিহীন ও জমি-ব্যবসায়ী। সমাজে এদের মূল্যায়ন তোলা তোলা। যদিও ভূমি নীতিমালা অনুযারী প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়া কোথাও কোন (চান্দিনা) দোকান ভিটি বনধোবন্ত দেওয়ার বিধান নেই। এছাড়াও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, কোন স্থায়ী সম্পদ নেই এমন শ্রেণীর ব্যক্তিরা খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে বনধোবস্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে ভূমি আইনে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা পাচ্ছে না ভূমি বনধোবস্ত।

 

প্রশাসনের এক শ্রেণীর লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রভাবশালীদের কব্জায় সরকারি খাস জমির আজ অস্তিত্ব সংকটে।

 

সরেজমিনে দেখাযায়, ভূমিদস্যুরা এসব ক্যাটাগরির কোনটিতে নেই। পারিবারিক ও স্থানীয় মদদে প্রশাসনের উদাসীনতায় চলছে জমি দখল ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ।

 

আরও জানা গেছে, কিছু কিছু দখলকারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই সুযোগেই নির্বিঘ্নে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, স্বৈরশাসন আমলে দখল করা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন দোকান ভিটি, খাস জমি দখল করে বর্তমান সরকার আমলের অনেকের নিকট লাখ লাখ টাকা বিক্রি করে দেশের বাহিরে অর্থ পাচার করছেন। কেউ কেউ অন্যত্র সম্পদ গড়ে তুলছেন, নানা ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতায় অত্র উপজেলায় ভূমি খাতটি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তথ্যসহ সকল কিছু জানলেও নিরব থাকে প্রশাসন! সরকারি ভূমি রক্ষায় আইন কাগজে কলমে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ইউএনও অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

দখলকারীরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়-‘সব ম্যানেজ করা আছে।’ সরকারি খাসজমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও বছরের পর বছর ধরে এসব জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে- আর এসব বিষয়ে প্রশাসনের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে খবর নিয়ে জানা গেছে। খাসজমি দখল ঠেকাতে সরকারের কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণচরে যেন তার কোনো প্রয়োগ নেই। দিন দিন বাড়ছে দখলের পরিধি, আর কমছে সরকারি সম্পত্তি।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে যদি প্রশাসন নিরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি খাসজমি নামমাত্র কাগজে থাকলেও বাস্তবে পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে কিছু প্রভাবশালীর হাতে।

 

অপরদিকে এমনও অনেক ভিপি সম্পত্তি লিজ দেওয়া আছে যেগুলোর প্রকৃত লিজাররা জমি বুঝে পায়নি কিন্তু প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করেন। অথচ সেই জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর করে আছে অন্য কেউ সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের। প্রকৃত লিজাররা ইউএনও এসিল্যান্ড এর কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। বরং তারা অন্য আইনের গল্প শুনিয়ে ছেড়ে দেয় ভিকটিমদের। দেখলে মনে হয় এখন সব মগের মুল্লুক।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের প্রকৃত সচেতন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, একাধিক পথচারীদের দাবি, খাসজমি দখল বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যেই যারা সরকারি খাসজমি দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, আচ্ছা আমি বিষয়টি জানি না। জেনে বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ নিবো। রিপোর্টটি লেখার আগ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের তরফ হতে। এতে কানাঘুষা করছে সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষজন তাহলে মনে হচ্ছে ‘সর্ষের মধ্যে কি ভূত??

 

এ ব্যাপারে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন জানান, আসলে অর্পিত বা ভিপি সম্পত্তি বাদে অন্যান্য খাস জায়গাগুলো তেমন ভাবে তদারকি করা হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সরকারি সম্পদ রক্ষায়।

 

যখন যেটা প্রয়োজন হয় তখন সে জায়গা আমরা নিয়ে নেই। প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদকৃত জমিতে স্থায়ী ইমারত নির্মাণে না কি আপনি অনুমতি দিয়েছেন গুঞ্জন উঠেছে ? তাই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব আছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান ভিটি করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন?? রাখলে সেই আইন কোনটি, জানান।

 

বিগত সময়ে আমরা অনেক জায়গা উদ্ধার করে সরকারি ভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা খাস জায়গা দখল করে আছে তাদের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। তারপরও এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© www.dainikonlinetalaashporbo21.com