রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ০৯ জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার।
বিশেষ প্রতিনিধি
গত ১৭ মার্চ ২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকায় রাউজান থানা এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ০৯ (নয়) জন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
১৪/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় জনৈক বাবুলের দুতলা বাড়িতে সিঁড়ি ঘরের উপরে ফাঁকা জায়গা দিয়ে প্রবেশ করে এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, এমিটেশন গহনা ও মোবাইল ফোনসহ পরিমাণ মালামাল লুণ্ঠন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি ব্যবহার, ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই আসামীদের শনাক্ত এবং পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান করে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত হতে ১টি লকেটসহ চেইন, ১ জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, ৩টি ব্রেসলেট, ১টি হাতঘড়ি, নগদ ৪,৯৮৪ টাকা, ১ টি রেডমি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি প্লাস, ১টি রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা নং-১২, তারিখ ১৭/০৩/২০২৬, ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফজর আলী @ বাটন @ ডিপজল ডাকাত চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধীদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং অন্যান্য আসামীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন সকাল বেলা আসামীরা বাস ও ট্রেনে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সন্ধ্যার সময় আলাদা আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পাহাড়তলী বাজারে চা-নাস্তা খেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। রাত ১টার দিকে ফজর আলী অন্যান্য আসামীদের নিয়ে জনৈক আহমদ হোসেন বাবুল এর বাড়ি ইউসুফ মঞ্জিলের কাছে পৌঁছায়। তিনজনকে বাহিরে পাহাড়ায় রেখে অন্যরা সিঁড়ি ঘরের উপরে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। খুব কম সময়ে মোবাইল, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে বের হয়ে আসে। পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় ভোরের আগেই ৯ জনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দ্রুততা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত অভিযানের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটি আইনের আওতায় এসেছে এবং এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
*গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীর পরিচিতি*
১.কবির হোসেন প্রকাশ জীবন প্রকাশ আমির (৪৬), থানা-বাহুবল, জেলা হবিগঞ্জ
২.আশিক (৪২), থানা-মাধবপুর, জেলা হবিগঞ্জ; বর্তমানে থানা-চান্দগাও, জেলা চট্টগ্রাম
৩.বুদু মিয়া (২২), থানা-মাধবপুর, জেলা হবিগঞ্জ
৪.আলী আহম্মদ @ মনু মিয়া (২৩), থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা সিলেট
৫.আবুল হোসেন (৩২), থানা-বিজয়নগর, জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া
৬.আবুল কালাম (২২), থানা-মাধবপুর, জেলা হবিগঞ্জ
৭.মোঃ মিটু (২৮), থানা-মাধবপুর, জেলা হবিগঞ্জ
৮.মনোয়ারুজ্জামান ইমন @ শাকিল (২৭), থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা সিলেট
৯.মোঃ মামুন মিয়া (৩০), থানা-মাধবপুর, জেলা হবিগঞ্জ
১০.ফজর আলী @ বাটন @ ডিপজল ডাকাত (৩১, পলাতক), থানা-চুনারুঘাট, জেলা হবিগঞ্জ; বর্তমানে থানা-সীতাকুন্ড, জেলা চট্টগ্রাম
১১.আমিন আলী (৩৪, পলাতক), থানা-বাহুবল, জেলা হবিগঞ্জ
*আসামীর মামলা বিবরণ (গ্রেফতারকৃত ও পলাতক)*
১.কবির হোসেন প্রকাশ জীবন প্রকাশ আমির : ৪ ডাকাতি, ১দস্যুতা, ২ ডাকাতির প্রস্তুতি, ১ অস্ত্র, ২ চুরি ও 3 টি অন্যান্য মোট ১৩ মামলা।
২.আশিক : ২ ডাকাতি, ১ ডাকাতির প্রস্তুতি, ১ অস্ত্র, ১ পুলিশ আক্রান্ত, মোট ৫ মামলা।
৩.বুদু মিয়া : মামলা নেই।
৪.আলী আহম্মদ @ মনু মিয়া : ১ মাদক মামলা।
৫.আবুল হোসেন : ১ মাদক মামলা।
৬.আবুল কালাম : ১ ডাকাতি মামলা।
৭.মোঃ মিটু : ২ ডাকাতি, ১ মাদক, মোট ৩ মামলা।
৮.মনোয়ারুজ্জামান ইমন @ শাকিল: ৩ ডাকাতি, ১ ডাকাতির প্রস্তুতি, ১ হত্যা, ৫ চুরি, ১ ধর্ষণ, মোট ১১ মামলা।
৯.মোঃ মামুন : ২ ডাকাতির প্রস্তুতি, ৬ চুরি, ১ মাদক, ১ অন্যান্য, মোট ১০ মামলা।
১০.ফজর আলী @ বাটন @ ডিপজল ডাকাত: ৬ ডাকাতি, ১৪ ডাকাতির প্রস্তুতি, ৫ অস্ত্র, ২ চুরি, ১ দস্যুতা, ১ পুলিশ আক্রান্ত, মোট ২৯ মামলা।
১১.আমিন আলী: ৪ ডাকাতি, ২ ডাকাতির প্রস্তুতি, ২ চুরি, ১ দস্যুতা, ১ অস্ত্র, ২ অন্যান্য, মোট ১৩ মামলা।