স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়ার ধানহাট এলাকায় গতকাল রাতে কার্গো বোঝাই নিষিদ্ধ মাদক পপি সীড ও বিদেশী সুপারী আটক করেছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পপিসীড ও সুপারী জব্দ করে।
স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সন্দেহ হলে ওই কার্গোটি আটক করে এবং পরে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি করে সন্দেহ হলে পুলিশকে জানায়।
বাউফল থানার ওসি আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত বৈধ কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি মাদকের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি।
তবে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার খবর ভাইরাল হলে বিকালেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম সাজেদুল ইসলাম সজল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
দী্র্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভারত ও বার্মা থেকে সরকারি বিপুল অংক ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে সুপারির আড়ালে পপি সীড, ইয়াবা সহ ভয়ানক সব মাদক বাংলাদেশে নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকে ট্রলার চালক ও জড়িতদের স্থানীয় লোকজন ঘেরাও করে রাখলেও পুলিশ আসতে বিলম্ব করার কারণে কৌশলে পালিয়ে যায় তারা।
এখানে উল্লেখ্য যে, ঘটনা স্থল থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে কালাইয়া বন্দরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। আর বাউফল থেকে কালাইয়া বন্দরে থানা পুলিশের আসতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট।
জনশ্রুতি রয়েছে, এরসাথে পটুয়াখালীর প্রখ্যাত চোরাকারবারী প্রফুল্ল এবং বরিশালের জয়দেব জড়িত। তাদের এই চোরাকারবারি দেখাশোনা করেন তাদের আত্মীয় উত্তমসহ আরো অনেকে। তারাই এই চোরাচালানের মুলহোতা। দীর্ঘদিন ধরে পার্টস, সুপারি, বিদেশী মদসহ চোরা চালানি ব্যবসা চালাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি থানা, পাথরঘাটা, ভোলা, চরফ্যাশন, পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া থানা সহ বরগুনার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। প্রফুল্ল ও জয়দেব একাধিকবার চোরাচালানি মামলায় হাজতবাস করেছেন। এখনো পটুয়াখালী এবং বরিশালে মামলা চলমান রয়েছে। তাদের রেজিস্ট্রেশন বিহীন একাধিক ট্রলার ও কার্গো রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বাউফল থানার ওসি অজ্ঞাত কারণে এই চোরা চালানটাকে তেমন আমলে নিচ্ছেন না।
পটুয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম জানান, মালামাল জব্দ চলছে। প্রকৃত তথ্য দিতে একটু সময় লাগবে।