মোঃ কামাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল ও হৃদয়গ্রাহী ঈদের জামাত, যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি পুরো এলাকাকে পরিণত করে এক অনন্য আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়। বায়েজিদ থানাধীন শেরশাহ হাউজিং এস্টেট ঈদগাহ মাঠে বৃহত্তর শেরশাহ ঈদগাহ কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ জামাতের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের জামাতে আনুমানিক ২০ হাজারেরও অধিক মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ভোরের আলো ফুটতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন। পুরো মাঠজুড়ে বিরাজ করে এক শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় পরিবেশ।
নামাজের পূর্বে বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা ঈদের তাৎপর্য, ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করেন। তাদের বক্তব্যে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে, যা মুসল্লিদের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলে।
নির্ধারিত সময়ে ইমামের নেতৃত্বে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত হয় আখেরি মোনাজাত, যেখানে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
জামাত শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় মুসল্লি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আয়োজকরা জানান, এবারের আয়োজন ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ও সুপরিকল্পিত। প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে প্যান্ডেল নির্মাণ করে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়াও, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের ছিল চোখে পড়ার মতো তৎপরতা। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, মুসল্লিদের সারিবদ্ধভাবে নামাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিক সহযোগিতা, স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এত বড় আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তারা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. মোঃ শাহাদাত হোসেনের প্রতি, যাদের সহযোগিতা এই আয়োজনকে সফল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
সবশেষে আয়োজকরা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, তাঁর অশেষ রহমত ও দয়ায়ই এত বড় একটি ধর্মীয় সমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এবং সবাই একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ জামাত বায়েজিদ এলাকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ, সুশৃঙ্খল ও সফল ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মনে এক অনন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।