
মোহাম্মদ রনি ইসলাম দৈনিক তালাশ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন এবং একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে; এর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে ঈদ-পরবর্তী গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত আছে। যাতে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ খাত ব্যাহত না হয়, সে জন্য ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রভাবের ধারাবাহিকতায় এই চাপ একসময় দেশের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে। এখনো সরকার তেলের দাম, নিত্যপণ্যের মূল্য বা বাসভাড়া বাড়ায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা ও সংযম জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ সরাসরি দেশের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় যাত্রীদের চলাচলে কোনো বড় সমস্যা হয়নি।
বর্তমান সরকার যে অর্থনীতি পেয়েছে তা নিম্নগতির বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান হ্রাস ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরেও স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা বাড়াতে হবে। অপচয় ও দুর্নীতি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সরলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, এবারের ঈদের আগে পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে, ফলে অতীতের মতো কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি।
এ সময় চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ে বিদ্যমান দুর্নীতি ছয় মাসের মধ্যে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমি সেবা সম্প্রসারণ এবং সব লেনদেন অনলাইনে আনার প
রিকল্পনার কথাও জানান তিনি।