লেখক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন
একটি ছোট শহরে বাস করত মোঃ কামাল উদ্দিন নামের এক যুবক। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল অনেক টাকা উপার্জন করবে, বড় বাড়ি বানাবে, সমাজে সম্মান পাবে। সময়ের সাথে সাথে সে সত্যিই সফল হয়ে উঠল—ব্যবসা করল, টাকা জমাল, শহরের মাঝে বিশাল দালানকোঠা বানাল। মানুষ তাকে ধনী হিসেবে চিনতে শুরু করল, কিন্তু ধীরে ধীরে সে মানুষের ভালোবাসা থেকে দূরে সরে যেতে লাগল।
মোঃ কামাল উদ্দিন ভাবত, “টাকাই সবকিছু।”
বন্ধু, আত্মীয়, এমনকি দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট—কিছুই তাকে স্পর্শ করত না। কেউ সাহায্য চাইলে সে ফিরিয়ে দিত, আর মনে মনে বলত, “আমার কষ্টের টাকা কেন অন্যকে দেব?”
একদিন রাতে তার পুরোনো এক বন্ধু করিম তার কাছে এল। করিম খুব অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য সাহায্য দরকার। কিন্তু কামাল তাকে ফিরিয়ে দিল। করিম চোখে পানি নিয়ে বলল,
“বন্ধু, টাকা সব নয়। একদিন বুঝবে।”
কিছুদিন পর হঠাৎ করেই মোঃ কামাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়ল। বড় বড় হাসপাতালে চিকিৎসা করাল, টাকা খরচ করল—কিন্তু তার মনে শান্তি নেই। এক রাতে সে স্বপ্ন দেখল, অন্ধকার এক জায়গায় সে একা দাঁড়িয়ে আছে। তার চারপাশে কেউ নেই—না পরিবার, না বন্ধু, না সেই টাকা-পয়সা।
একটি অদৃশ্য কণ্ঠ বলল,
“তুমি কী এনেছো তোমার সাথে?”
মোঃ কামাল উদ্দিন চারদিকে তাকিয়ে দেখল—তার হাতে কিছুই নেই। শুধু তার কাজ, তার আচরণ, আর মানুষের ভালোবাসা বা অভিশাপই যেন তাকে ঘিরে আছে। সে বুঝতে পারল—জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, আর সৎ কাজ।
হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেল। সে গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগল—
“একদিন তো সবাইকে চলে যেতে হবে। তখন এই দালান, এই টাকা—কিছুই তো আমার সাথে যাবে না। থাকবে শুধু আমার আমলনামা আর মানুষের ভালোবাসা।”
পরদিন থেকেই কামাল বদলে গেল।
সে নামাজ পড়া শুরু করল, রোজা রাখল, গরিবদের সাহায্য করল, অসুস্থদের পাশে দাঁড়াল। মানুষ আবার তাকে ভালোবাসতে শুরু করল—এবার তার টাকার জন্য নয়, তার মন আর আচরণের জন্য।
মোঃ কামাল উদ্দিন বুঝে গেল—
জীবনে টাকার প্রয়োজন আছে, কিন্তু জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়।
শান্তি, সম্মান আর সত্যিকারের মানুষ—এগুলোই চিরস্থায়ী।
আর একদিন যখন মহান আল্লাহর ডাকে তাকে যেতে হবে, তখন সে অন্তত বলতে পারবে—
“আমি শুধু টাকা নয়, মানুষের ভালোবাসাও অর্জন করেছি।”