
টাইগারপাসে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মূল হোতাসহ ৭ পেশাদার ছিনতাইকারী গ্রেফতার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযানে পেশাদার ছিনতাইকারী দলের মূল হোতাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি-উত্তর)।গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একাধিক দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ডিবি (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাং-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এসআই রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে ডিবি টিম-৩১ এর একটি চৌকস দল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সেই অভিযানের অংশ হিসেবে রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন টাইগারপাস টু নিউ মার্কেট সড়কের পলোগ্রাউন্ড স্কুলের বিপরীতে অফিসার্স ক্লাবের নিচে অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে গোয়েন্দা পুলিশ দ্রুত চারদিক ঘিরে ফেলে তাদের আটক করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: জাহাঙ্গীর প্রকাশ বলি (৫৩), নাসির উদ্দিন (৩৬), মো. ইউসুফ প্রকাশ সাজিদ (২৩), আতাউর রহমান (৪৩), ফরহাদ মিয়া (৩৬), মো. হাফিজুর রহমান সুমন (৪৪) এবং মো. আবুল কালাম প্রকাশ রবিন (২৮)।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ফোল্ডিং ছোরা, ৩টি হাতলযুক্ত ছোরা এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে জাহাঙ্গীর, নাসির ও ইউসুফের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা ওই এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে সুযোগ বুঝে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কোতোয়ালী থানার টাইগারপাস, ফলমন্ডি এবং আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা বিভিন্ন সময় দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে সুযোগ বুঝে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিআরটিএ এলাকা, নিউ মার্কেট সংলগ্ন সড়ক এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মানুষজনকে টার্গেট করত এই চক্র। দূর-দূরান্ত থেকে গাড়িযোগে আসা যাত্রী ও পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত তারা।
অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত কিংবা নির্জন স্থানে অপেক্ষা করে তারা সংঘবদ্ধভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে ওইসব এলাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের স্বভাব-চরিত্র এবং অপরাধমূলক রেকর্ড (পিসি/পিআর) যাচাই করে দেখা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশ কয়েকটি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী জড়িত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে ওই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে ডিবি পুলিশ।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানের ফলে একটি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নগরীতে অপরাধ দমনে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।