
শুরু হলো সেন্টমার্টিন যাত্রা, ছেড়ে গেছে ৩টি জাহাজ
হাফিজুর রহমান খান, স্টাফ রিপোর্টার (কক্সবাজার) ::
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে আজ থেকে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দুই মাস, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকেরা এই প্রবাল দ্বীপে গিয়ে রাত্রীযাপনের সুযোগ পাবেন। আজ সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে। মৌসুমের প্রথম এই যাত্রায় রয়েছেন ১ হাজার ১০৬ জন পর্যটক।
দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত অক্টোবরে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো বা উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান করা যাবে না, বারবিকিউ পার্টি ও কেয়াবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ, প্রবাল, কেয়াফল সংগ্রহ ও ক্রয়–বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া ও অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয়, সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরযান চলাচল নিষিদ্ধ, পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত।
সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ তিনটি হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারআউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ। আজ বেলা দুইটা নাগাদ জাহাজ তিনটি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জাহাজগুলো আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছেড়ে আসবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক যাত্রী বলেন, জাহাজে চড়ে বিশাল বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়া সত্যিই রোমাঞ্চকর। সাগর আর নীল জলের পানকৌড়ী দেখে দেখে সেন্টমার্টিন দেখার ইচ্ছা দীর্ঘদিনের। দুটিই আজ পূরণ হচ্ছে।
রাজশাহীর একজন ব্যবসায়ী যাত্রী বলেন,সাত বছর আগে টেকনাফ হয়ে জাহাজে সেন্টমার্টিন গিয়েছিলাম। নাফ নদী ও মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের আনন্দ ভোলার মতো নয়। এবার অন্য পথে যাচ্ছি। আশা করি ভালোই লাগবে।’
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, প্রথম দিনের যাত্রায় তিনটি জাহাজে ১ হাজার ২০০ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন। তাঁরা সেখানকার হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন। সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে জাহাজেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গত বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ১০ হাজারের মতো পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছিলেন।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ঘাটে উপস্থিত ছিলেন টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান আপেল মাহমুদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন, কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা প্রমুখ।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এসব নির্দেশনা মানতেই পর্যটন মৌসুমের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। নৌপথে যাতায়াত, রাত্রীযাপন এবং দ্বীপের পরিবেশ সবকিছুকে নিরাপদ রেখে পর্যটনকে আরও শৃঙ্খলিত করতে চান তাঁরা। সকালবেলার যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে এ বছরের সেন্টমার্টিন মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন কার্যক্রম চালু হলো। দুই মাস ভ্রমণের সুযোগ থাকায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও নতুন মৌসুমে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শহিদুল আলম বলেন, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পাবেন। পরিবেশ–সংবেদনশীল এই দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম টেকসই রাখতে সরকারের জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করা হবে।
এডিএম শহিদুল আলম আরও জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদ এবং কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনসহ চারটি জাহাজ কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে, কিউআর কোড ছাড়া টিকিটকে বৈধ ধরা হবে না।