
পটুয়াখালীতে নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে হেনেস্তা ও মারধর বাড়িতে হামলার অভিযোগ।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি।
নারীকে উত্ত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিকে হেনেস্তা ও বসতঘরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী কালিকাপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বোন শাহাবানু বেগম।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সুত্রে, শাহাবানু বেগম এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মেসাঃ নুসরাত জাহান ফাইজা বেগম কে একই বাড়ির ভাড়াটিয়া জসিম নামের এক ব্যাক্তি প্রায় সময় উত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিতো। ঘটনাটি বাড়ির মালিক শাহাবানুকে জানান ঐ নারী। গত বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৩ টার সময় নারীকে উত্ত্যক্ত করতে আসলে উত্যক্তকারী জসিমকে হাতেনাতে ধরে সতর্ক করা হয়।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বারেক চৌকিদার বলেন, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নিয়ে হেতালিয়া বাঁধঘাট মাছ বাজারের সামনে জনসম্মুখে হেনেস্তা করে এবং মারধর করা হয়। মারকারীরা হলেন, জাহাঙ্গীর চৌকিদার, রেজাউল চৌকিদার, খলিল চৌকিদার, সবুজ ও সুজন। পরে বিসয়টি বিএনপির নেতাকর্মীদের জানানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন শুক্রবার ৫ ডিসেম্বর – সকাল বেলায় উক্ত ব্যাক্তিরা সহ আর ১০-১২ জন মিলে শাহাবানু বেগম এর বাড়িতে হামলা চালায়।
এবিষয়ে শাহাবনু বেগর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জসিম রাতের বেলায় আমার ভাড়াটিয়া ফাইজা বেগমের জানালায় এসে ধাক্কাধাক্কি করে এসময় হাতেনাতে তাকে ধরি। পরে তাকে সতর্ক করি যাতে এধরণের কাজ না করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি একজন হাফেজা পর্দা করি। জসিম একজন মাদকসেবী আমার ঘরের আশেপাশে রাতের বেলা মাদক সেবন করে। খুবই জঘন্য আচরন করে ঘরের দরজা জানালায় ধাক্কা দিয়ে বলে দরজা খোল না হয় মেরে ফেলবো। ভয়ে বাড়ির মালিককে জানাই তারা সরাসরি ধরে তাকে সতর্ক করে। পরে বারেক চৌকিদার কে মারধর করে এবং পরের দিন বাড়িতে হামলা চালায়। এর সুষ্ঠু বিচারর দাবি জানান।
এ ব্যাপারে কালিকাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবু বলেন, আমার ওয়ার্ড সভাপতি নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে হেনেস্তা ও মারধর করে বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। ১৭ বছর জুলুম নির্যাতন করেছে মানুষের উপর। ব্যাবসায়ীরা তাদের কাছে জিম্মি এখনও তাদের চাঁদা দিতে হয়। ২৪ এর আন্দোলন এর পর ও এরা নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এর চেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না। এই জাহাঙ্গীর জিকু বিএনপি অফিস ভাংচুর করার মামলায় আসামি থাকা সত্বেও ওপেন ঘুরছে এজন্যই আজ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিকে মারধর করার সাহস পেয়েছে। আমরা ইউনিয়ন বিএনপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিএনপির নেতাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।
অভিযোগ এর বিষয় জানতে চাইলে সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি, পরে মোবাইল ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার বিষয়ে আশেপাশে ব্যাবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন বিষয়টি শুনেছে তাদের মধ্যে হাতাহাতি মারামারি হয়েছে এর চেয়ে বেশি কিছু জানিনা।