
উখিয়ার রত্নাপালং মায়ের পরকীয়া ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ বিরুদ্ধে মেয়ে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ।
উখিয়া প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম
কক্সবাজারের উখিয়া থানায় এক কিশোরী তাহার মা, মায়ের কথিত প্রেমিক ও খালার বিরুদ্ধে পরকীয়া, স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দমাকের অভিযোগ এনে একটি লিখিত আবেদন দায়ের করেছে উখিয়া থানায়। গত ১৫ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোছাঃ সাদিয়া নূর (১৬) এ অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া নূরের পিতা মোহাম্মদ জসিম দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসী। প্রবাসে অবস্থানকালে স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩৪) দীর্ঘ সময় ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করেছে মেয়েটি। অভিযোগে উল্লেখ আছে— কোটবাজারের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৫) মায়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত এবং এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারে অশান্তি বাড়তে থাকে।
সাদিয়া নূর জানান, তারা দুই ভাইবোনকে নিয়ে গত দুই বছর ধরে পশ্চিম রত্না কোটবাজারের নুরুল হকের ভাড়াবাসায় বসবাস করছেন। এই সময়ে মা রোজিনা আক্তার ২ নম্বর বিবাদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বাড়ির বিভিন্ন মালামাল, বিয়ের সময় পাওয়া স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের জরুরি সম্পদ সরিয়ে নেন। এসব বিষয়ে বাবা বিদেশ থেকে চেষ্টা করেও কোনো সমাধান করতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাদিয়ার খালা ছমিরা আক্তারও (৩৫) এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি রোজিনা আক্তারের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া সাদিয়া অভিযোগ করেন, গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তাকে ও ভাইদের অরক্ষিত রেখে মা বাড়ি থেকে বের হয়ে ২ নম্বর বিবাদীর কাছে যান এবং পরে খালার সহায়তায় নতুন ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে সালিশ করার চেষ্টা করলেও বিবাদীরা কোনো কথাই শোনেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ— বর্তমানে বিবাদীরা সাদিয়া ও তার ভাইদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং তাদের প্রবাসী পিতা দেশে ফিরলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দিচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনা অবগত বলে সাদিয়া তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
সাদিয়া নূর পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনের আশ্রয় নিতে উখিয়া থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
উখিয়া থানা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।