

অন্য একটি মামলার প্রেস রিলিজ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা আজ দুপুরে থানায় উপস্থিত হন। কিন্তু থানার ভেতরে পা রাখতেই বেরিয়ে আসে এসআই আরিফুলের ক্ষমতার দম্ভ ও অমানবিকতার বীভৎস চিত্র, চোখের সামনেই দেখা যায়, ন্যূনতম মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে এক আসামিকে পশুর মতো লাথি মেরে হাজতখানায় ঢোকাচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা!
তার এই স্বৈরাচারী আচরণ কেবল আসামির ওপরই সীমাবদ্ধ ছিল না। ভেতরে থাকা আসামিদের স্বজনরা যখন একটু দেখা করতে আসেন,তখন তাদের দিকেও তেড়ে যান এসআই আরিফুল। চরম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অসহায় পরিবারগুলোকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন,বেশি কথা বললে তোদেরকেও হাজতের ভেতর ঢুকিয়ে দেবো, সাধারণ মানুষের কান্না আর অসহায়ত্ব যেন এই দাম্ভিক কর্মকর্তার কাছে স্রেফ তামাশা।
সমাজের দর্পণ গণমাধ্যমকর্মীরা যখন এই চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভয়ংকর চিত্র অবলোকন করেন,তখন উন্মত্ত এসআই আরিফুল সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন,কলম সৈনিকদের উদ্দেশ্যে তিনি ছুঁড়ে দেন সরাসরি হুমকি,আইনের পোশাক গায়ে জড়িয়ে ঔদ্ধত্যের সকল সীমা ছাড়িয়ে সাংবাদিকদেরও তিনি হাজতখানায় ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখান এবং চরম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এসআই আরিফুলের এই বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রেস রিলিজের বিষয়ে সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবির-এর কক্ষে যান। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করছিল আরও বড় বিস্ময়! খোদ ওসির সামনেই এসআই আরিফুল সাংবাদিকদের সাথে গলা উঁচিয়ে চরম বেয়াদবি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন। ওসির নীরবতা ও অসহায়ত্ব এবং এসআই আরিফুলের আস্ফালন দেখে উপস্থিত সকলের মনে একটাই প্রশ্ন জেগেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানার আসল ওসি কে? এসআই আরিফুল কি তবে ক্ষমতার দর্পে ওসিকেও নিজের পকেটে পুরে রেখেছেন?
**প্রশাসনের প্রতি চরম বার্তা**
সাংবাদিকরা সমাজের আয়না, আর গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বা সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পাওয়ার দিন শেষ। এসআই আরিফুলের মতো গুটি কয়েক বিপথগামী ও দাম্ভিক কর্মকর্তার কারণে আজ পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি চরম প্রশ্নের মুখে।
এই সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, আইজিপি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে অবিলম্বে এসআই আরিফুলের এই স্বৈরাচারী আচরণের বিভাগীয় তদন্ত করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ধরনের কর্মকর্তারা যেন ভবিষ্যতে আর কোনোদিন সাধারণ পাবলিক ও সাংবাদিকদের সাথে বেয়াদবি করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে, তা প্রশাসনকেই নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, কলমের শক্তিতে এই অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এমন দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার জবাব দিতে প্রশাসন বাধ্য থাকবে!