

স্পেশাল ক্রাইম রিপোর্টার্। অরুপচন্দ্র।
আমিরাবাদ ৮নং ইউনিয়নে ফেনীর সোনাগাজীর এক প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বেআইনি পশুর খামারের দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠেছে জনজীবন,খামারের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ,বন্ধ হয়ে গেছে চলাচলের একমাত্র পথ,অথচ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী মো.নুরুল আলম,যিনি নিজে একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবালয় কর্মকর্তা,অভিযোগ উঠেছে,খোদ পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীর সাথে চরম অপেশাদার আচরণ করছেন,যা প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।
**ঘটনার নেপথ্যে**
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যম আহমদপুর গ্রামের মৃত জাগীর আহমদের ছেলে কামাল উদ্দিন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসতঘরের সামনে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করেছেন। খামারের পচা বর্জ্য ও মলমূত্র স্তূপ করে রাখায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে এবং সংলগ্ন পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে,এর ফলে এলাকার শিশু ও বয়স্করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। শুধু তাই নয়,পশুর বর্জ্য ফেলে ভুক্তভোগী নুরুল আলমের বাড়ির প্রধান চলাচলের পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ঘটনাস্থলে অনুসন্ধানে করতে গিয়ে অবৈধ খামার পরিচালনা কামাল উদ্দিন স্ত্রী সাথে যোগাযোগ করতে গেলেন উনি এ ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।
**প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও দুর্ব্যবহার**
**ভুক্তভোগী নুরুল আলম জানান** প্রতিকার চেয়ে তিনি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর,ফেনীর উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন, কিন্তু প্রতিকার তো মেলেইনি,উল্টো উপ-পরিচালক মিসেস সংযুক্তা দাস গুপ্তা ভুক্তভোগীর সাথে অপেশাদার ও অসদাচরণ করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে,একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার সাথে প্রশাসনের এমন আচরণে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে,পরিবেশ অধিদপ্তর ও
**স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায়** কীভাবে একটি আবাসিক এলাকায় এমন অস্বাস্থ্যকর ও অবৈধ খামার মাসের পর মাস চলে????
প্রশাসনের এই নীরবতা কি অজ্ঞাত কোনো কারণে নাকি প্রভাবশালী খামার মালিকের সাথে কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাতের ফল—এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
**অবরুদ্ধ ভুক্তভোগীর আর্তনাদ**
ভুক্তভোগী মো. নুরুল আলম আক্ষেপ করে বলেন,আমি নিজে সারাজীবন সচিবালয়ে সরকারি সেবা দিয়েছি,অথচ আজ বৃদ্ধ বয়সে নিজ বাড়িতে বাস করার অধিকার হারিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি,একদিকে খামারের দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেওয়া দায়, অন্যদিকে আমার চলাচলের পথটি বন্ধ করে আমাকে বন্দি করে ফেলা হয়েছে,পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানিয়েও যখন বিচার পাই না এবং কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার সইতে হয়,তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়????
**থানা ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা**
বিষয়টি নিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৩২৫, তারিখ-০৭/০৯/২০২৩) করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি,প্রভাবশালীদের দাপটে পুলিশ ও প্রশাসন কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
**প্রশাসনের প্রতি দাবি**
অবিলম্বে এই অবৈধ খামারটি উচ্ছেদ করে পরিবেশ রক্ষা করা এবং ভুক্তভোগী নুরুল আলমের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী। নুর আলম পুনরায় জেলা প্রশাসক পরিদপ্তর নতুন করে অভিযোগ দিয়েছে সেই সাথে অভিযুক্ত পরিবেশ কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও দুর্ব্যবহারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে,প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়,তবে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। উপরোক্ত বিষয় নিয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিগ্যান চাকমা ঔ ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তর উপরিচালক মোদাব্বের হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে উনার এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।