
ফেনী-৩ আসনের সন্ত্রাসের কলঙ্ক মুছে দিতে চাই
সোনাগাজীতে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরু উদ্দিন মানিক
স্টাফ রিপোর্টার
রুপা আক্তার ইন্নি
ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের ১১ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরু উদ্দিন মানিক বলেছেন, “ফেনী-৩ আসনের সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলাকে সন্ত্রাস কবলিত
এলাকার যে কলঙ্ক লেগে আছে, তা আমি মুছে দিতে চাই। মানবিক, কার্যকর ও বৈষম্যহীন একটি সোনাগাজী-দাগনভূঞা গড়াই আমার লক্ষ্য।”
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে সোনাগাজী পৌর শহরের হারবি কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. ফখরু উদ্দিন মানিক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ২২ দফা নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে জনগণের কাছে হাজির হয়েছেন।
এমপি নির্বাচিত হতে পারলে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, ভূমিদস্যুদের দখলে থাকা নদী ও চরাঞ্চল উদ্ধার, অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ, গ্যাস সংকট নিরসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা পৌরসভাকে আধুনিকায়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি রাজনীতি করি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। নির্বাচনে জয়ী হই বা পরাজিত হই—সবসময় জনগণের পাশেই থাকবো। আমাকে খুঁজতে কোনো দপ্তরের উপরের তলায় উঠতে হবে না, সিরিয়াল ধরতে হবে না।
সরকারি সহায়তা নিতে মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জনগণকে সম্মানের জায়গায় রেখেই কাজ করবো।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. মানিক বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে তিন বছর কারাবরণ করতে হয়েছে, প্রায় ৭০টি মামলার আসামি হয়েছেন এবং ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে হাজার হাজার তরুণ বুক পেতে গুলি খেয়েছেন, অনেকেই শহীদ হয়েছেন। শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে।”
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা প্রচারণা চালাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।”
তবে এসব প্রতিকূলতার মাঝেও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যথাসাধ্য সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহীম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফখরু উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. মোস্তফা, সেক্রেটারি এসএম বদরুদ্দোজা, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্ল্যাহ, সেক্রেটারি মো. মহসিন ভূঞা, এবি পার্টির আহ্বায়ক ওয়াছিউর রহমান খসরু, এনসিপির প্রধান উপজেলা সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মুফতি আবদুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।