1. live@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : news online : news online
  2. info@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : দৈনিক অনলাইন তালাশ পর্ব ২১ :
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মুরাদনগরে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি হুজি রাইফেলসহ দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ আজ মহেশখালীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও নাক–কান ছেদন কর্মসূচি সম্পন্ন কক্সবাজারে এডিসি স্বামীর দাপটে অফিসে অনুপস্থিত উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র,মাদক ও নগদ অর্থ সহ নরসিংদীর শিবপুরে সাত জনকে গ্রেফতার উখিয়ায় বেশি দামে গ্যাস বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাত্রিকালে অভিযানে মোবাইল চোর চক্রের সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল উদ্ধার বরিশাল জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের উদ্যোগে বিজয়নগর থানা পুলিশের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, ১ মাদক কারবারী গ্রেফতার।

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা: সেন্টমার্টিন পয়েন্টে ২৭৩ জন আটক, সক্রিয় মানব পাচার চক্রের অস্তিত্ব?

হাফিজুর রহমান খান,স্টাফ রিপোর্টার (কক্সবাজার) ।।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা: সেন্টমার্টিন পয়েন্টে ২৭৩ জন আটক, সক্রিয় মানব পাচার চক্রের অস্তিত্ব?

হাফিজুর রহমান খান,স্টাফ রিপোর্টার (কক্সবাজার) ।।

কক্সবাজারের সাগরের সেন্টমার্টিন পয়েন্ট এলাকায় নৌবাহিনীর অভিযানে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ২৭৩ জন নারী ও পুরুষ আটক হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এত বিপুল সংখ্যক মানুষ কীভাবে দীর্ঘদিন নজরের বাইরে থেকে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল?

গোপন নেটওয়ার্ক ও দালালচক্র:

নৌবাহিনী সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা সবাই সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে একাধিক দালালের মাধ্যমে জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য মিলেছে। এই অর্থ স্থানীয় দালাল, নৌযান মালিক ও বিদেশে অবস্থানরত সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগ হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার গ্রামভিত্তিক দালালরা দীর্ঘদিন ধরে এই পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ের এই দালালদের সঙ্গে প্রভাবশালী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা ও মানবিক বিপর্যয়:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্টমার্টিন পয়েন্ট ব্যবহার করে পাচার নতুন নয়। অতীতে এই রুটে বহুবার নৌডুবি, নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারপরও দালালদের প্রলোভনে পড়ে দরিদ্র ও বেকার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন।

আটক কয়েকজন জানান, মালয়েশিয়ায় পৌঁছালে ভালো চাকরি ও উচ্চ আয়ের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা জানতেন না নৌযানের সক্ষমতা, খাবার-পানি কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনায় শুধু যাত্রীরা নয়, মূল অপরাধী হলো সংগঠিত মানব পাচারকারী চক্র।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী—

ধারা ৬: মানব পাচারের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

ধারা ৭: পাচারে সহায়তা বা ষড়যন্ত্রের জন্য একই ধরনের শাস্তির বিধান।

ধারা ১২: পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের নির্দেশনা।

অন্যদিকে, অবৈধভাবে বিদেশে গমনের প্রস্তুতির দায়ে পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩ অনুযায়ীও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যাত্রীদের অপরাধী নয়—ভুক্তভোগী হিসেবে দেখাই উচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্ট থেকে রাতের আঁধারে লোক জড়ো করা হয়। তাহলে এত বড় আয়োজন প্রশাসনের নজরে আসেনি কীভাবে? পাচার চক্রের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী বা অসাধু নৌযান মালিকদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দালালচক্র শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান নয়—

পাচার রুটের স্থায়ী নজরদারি, দালালদের আর্থিক লেনদেন তদন্ত, এবং পাচার-প্রবণ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার না হলে এই মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

উখিয়ায় ৮ এপিবিএনের অভিযানে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক জাহাঙ্গীর আলম-উখিয়া কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোর্টবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯০০ পিস ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৮ এপিবিএন)। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫৫ মিনিটে টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়কের কোর্টবাজার আলিমুড়া এলাকায় অবস্থিত ৮ এপিবিএনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৮ এপিবিএন সূত্র জানায়, এসআই (নি:) মোঃ নুর নবীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনার সময় সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। পরে আশপাশ থেকে আগত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে তল্লাশি করা হলে তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগের ভেতরে কালো রঙের পলিথিন থেকে ১৮টি লকযুক্ত এয়ারটাইট সাদা পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ৯০০ পিস অ্যামফিটামিন জাতীয় ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট পাওয়া যায়। আটক যুবকের নাম মোঃ আবদুল্লাহ প্রঃ মোঃ ওসমান (১৯)। তিনি বালুখালী-১ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৯ নম্বর ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ১১০১৫৬। তার পিতার নাম মৃত ইলিয়াস এবং মাতার নাম হালিমা খাতুন বেগম। উদ্ধারকৃত ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেটগুলো বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আটক আসামি ও জব্দকৃত আলামত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ৮ এপিবিএনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদক পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

© www.dainikonlinetalaashporbo21.com