
মাধবপুরে বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি ।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের এক গার্ডের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন গার্ড জয়নাল মিয়া (৫০)। তিনি উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বেঙ্গাডোবা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত ছেরাগ আলী।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, কেন্দ্র সচিব ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রবেশের অনুমতি দেন। কিন্তু এরপরও গার্ড জয়নাল মিয়া তালা খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিষয়টি কেন্দ্র সচিব, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. কবির হোসেন ও দায়িত্বরত পুলিশের সামনে উপস্থাপন করা হলেও তাদের সামনেই আবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ওই গার্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই জয়নাল মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
মাধবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার মাধবপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক এম এ কাদের বলেন, “প্রথমে গার্ডকে পরিচয় দিয়ে কথা বলার পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো সাংবাদিককে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিকদের প্রয়োজন নেই এবং অশালীন আচরণ শুরু করেন।
গার্ডকে কেন্দ্র সচিবকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিভাবকদের সামনেই সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন। পরে দায়িত্বরত এটিও কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে কথা বলা হয়। এরপর কেন্দ্র সচিব, এটিও ও পুলিশ সরাসরি গেইটে এসে তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও গার্ড তা মানতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গেইটের তালা খুলে দেন। এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। সে সময় গার্ডের কাছে কেন্দ্র সচিবকেও অসহায় মনে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের গার্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকলে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হবে। তাই অবিলম্বে ওই গার্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এদিকে, এ ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকসহ সচেতন মহলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।