
রাজশাহী তানোরে ফসলের মাঠের দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বন্প ধানের শীষ
মোঃ নাসিরউদ্দিন সিনিয়র সটাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বন্প ধানের শীষ। বাতাসে বোরো ধানের সবুজ ঢেউ কৃষকের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে ধান গাছের সবুজ পাতা ও আবার কোথাও আধা পাকা শীষ। আর এমন সোনালী ঢেউয়ে দুলে উঠছে প্রকৃতি। ইরি-বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ধানের আধা পাকা শীষ দেখে কৃষকের আনন্দে বুক ভরে যায়। দিগন্ত জোড়া সবুজ ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে।
তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইরি-বোরো ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। ধানের প্রতিটি ক্ষেতে উঁকি দিচ্ছে আধা পাকা শীষ। ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকেরা। কৃষকরা মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ মূহুর্তে কেউ মাঠে সেচ, কীটনাশক প্রয়োগে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
কৃষকরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, নিবিড় পরিচর্যা, যথাসময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে বোরো ধানের চাষাবাদ ভালো হয়েছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
তারা বলছেন শীষ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে । এরপর সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। রাশি রাশি সোনালী ধানে ভরে উঠবে কৃষাণ-কৃষাণীর শূন্য গোলা। আর তাইতো বোরো এই রোরো ধানকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
তানোর পৌরসভার উপজেলা ক্যাম্পাসের কৃষক শফিকুল ইসলাম ডলার বলেন, আমি এবার ৫বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি না হয়, তাহলে সুন্দরভাবেই ফসল ঘরে তুলতে পারবো।
তানোর পৌরসভার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আঃমান্নান বলেন বলেন, আমি এবার ৭/৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। এবছর সার ও সেচের তেমন কোন সংকট হয়নি। যে কারণে ফসলের চেহারা অনেক সুন্দর হয়েছে। হলুদ বর্ন শীষ দেখে মনে হচ্ছে ধানের ব্যাপক ফলন হবে।
কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীঘন্টা গ্রামের কৃষক আঃকাশেম। বলেন, এ বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। ধানের দাম ভালো হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার দু’বিঘা জমি বেশি ধান চাষ করেছি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে এ বছর ধানের ভালো ফলন পাবো আশা করছি।প্রতি বিঘায় অন্তত ২৮থেকে ৩০ মণ ধান উৎপাদন হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ আহম্মদ বলেন, এবারের তানোর উপজেলায় বোর ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর । । অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। এখনও পর্যন্ত উপজেলার কোথাও কোন পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। ইতোমধ্যেই ধান গাছে শীষ বের হয়ে হলুদ বর্ন আকার ধারন করেছে। আমরা আশা করছি বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন বলে মনে করি।