1. live@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : news online : news online
  2. info@www.dainikonlinetalaashporbo21.com : দৈনিক অনলাইন তালাশ পর্ব ২১ :
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মাদক শান্তি দেয় না, পরিবারকে তছনছ করে ফেলে-এমপি ফজলুল হক মিলন আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় জিডি ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী শান্তি ও নিরাপদে থাকার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন— এমপি আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন সিনিয়র রিপোর্টার সাইফুল ইসলামের কন্যা সাদিয়া ইসলাম সুইটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা খামেনিকে কীভাবে হত্যা কিভাবে সুরক্ষিত ভবনে করা হলো? কোনাখালী ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে অর্ধশতাধিক পরিবারকে ইফতার সামগ্রী প্রদান লামায় দুই অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানজরিমানা ৫ লাখ টাকা, জব্দ কয়েকশ’ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি চট্টগ্রাম বিভাগের মানবিক উদ্যোগ ইরানে হামলা শুরু, খামেনেয়ির অবস্থান সম্পর্কে যা জানা গেল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়িকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা-

আনিছুর রহমান
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

আনিছুর রহমান

দেশে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু জটিল কারণ বিদ্যমান, যা চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো অপরাধকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা,
সুরক্ষা ও দায়মুক্তি: অনেক অপরাধী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগসাজশ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। রাজনৈতিক নেতারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেন, যা অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি করে। ফলে তারা নির্ভয়ে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, দখলদারিত্ব, এমনকি হত্যা পর্যন্ত ঘটাতে সাহস পায়।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসা, দখলদারিত্ব ইত্যাদি অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। এই অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও যায়, যা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। এতে অপরাধীরা রাজনৈতিক দলের জন্য অর্থ যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে এবং বিনিময়ে রাজনৈতিক সুরক্ষা পায়। দলগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য পেশীশক্তি ব্যবহার করে। অনেক সময় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বজায় রাখে। এতে অপরাধীরা দলের “কর্মী” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক রঙ পায়।
দুর্বল আইনের শাসন ও বিচারহীনতায় ওরা প্রভাব খাটিয়ে মামলা ধামাচাপা দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুর্বল করে দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যও এর সাথে জড়িত থাকতে পারেন। ফলে অপরাধীরা শাস্তির ভয় পায় না।
বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সাক্ষী-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের উৎসাহিত করে। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা নতুন অপরাধী তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক সময় অপরাধের ধরনে পরিবর্তন আসে। যেমন, আগের সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা নিষ্ক্রিয় হলেও নতুন সরকারের ছত্রছায়ায় নতুন অপরাধী গোষ্ঠী তৈরি হয়।
তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পূর্ববর্তী অপরাধীরাই খোলস বদলে নতুন পরিচয়ে সক্রিয় থাকে, কারণ তারা চাঁদাবাজির পদ্ধতি ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে অভিজ্ঞ।
অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বেকারত্বের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা।
জীবিকার তাগিদে অনেকে হতাশ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন তারা দেখে যে অবৈধ উপায়ে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা সম্ভব এবং রাজনৈতিক সুরক্ষা থাকলে শাস্তির ভয় একেবারেই কমে। তাই ওরা সহজ অর্থ উপার্জনের লোভে চাঁদাবাজি বা রাহাজানির মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের সুযোগ অনেককে আকৃষ্ট করে, বিশেষ করে যাদের কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে।
সমাজে অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা ভয় ও প্রতিবাদহীনতায় সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি ও রাহাজানির শিকার হয়েও অনেক সময় ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। “গা-সওয়া” হয়ে যাওয়া দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো অপরাধ চলতে থাকলে সমাজের একটি অংশ এটিকে অনেকটা “গা-সওয়া” করে ফেলে, যা অপরাধীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজদের সাথে যোগসাজশ এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
কৌশলগত সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় রাজনৈতিক চাপের কারণে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫ই আগস্টের বিপ্লব (২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) পরবর্তী পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া “জুলাই বিপ্লব” (২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) এর পর অনেকে আশা করেছিল যে চাঁদাবাজি ও রাহাজানি কমে আসবে। তবে কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন করে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারি শুরু করেছে।
পুরোনো চাঁদাবাজরাও খোলস বদলে নতুন পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে। এটি জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, যা আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এইসব কর্মকান্ডে সমাধানে রাজনীতিবিদদের মধ্যে অপরাধ দমনের দৃঢ় সদিচ্ছা থাকতে হবে এবং কোনো প্রকার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। এবং
অপরাধীরা যে, দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে অপরাধে জড়িত হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।
সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধে চাঁদাবাজি ও রাহাজানির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় অপরাধী বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্বল আইনের শাসন, অর্থনৈতিক অসমতা এবং সামাজিক উদাসীনতা। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© www.dainikonlinetalaashporbo21.com