
চট্টগ্রাম প্রতিনিধ
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর সদরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শ্রীমাই খাল। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে খালটির বুক চিড়ে তোলা হচ্ছে বালু। এতে একদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে, অন্যদিকে ভাঙনের কবলে পড়ছে খাল সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য শ্রীমাই খালের রাবার ড্যাম, বেড়িবাঁধ ও ব্লক স্থাপনসহ ১৩৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, যুবদল নেতা এস. এম. রেজা রিপন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এনামুল হক এনামের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রীমাই খালে বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম। পাশাপাশি খালের দুই তীরের ভাঙন রোধে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ব্লক বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পটিয়া পৌরসভাসহ হাইদগাঁও, কেলিশহর ও কচুয়াই ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ১০৮ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি মাসে একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্প ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। সম্পন্ন হলে শুষ্ক মৌসুমে এটি ৩৭ কোটি লিটার পানি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হবে যা এলাকার কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে খালের
দুই পার ভেঙে পড়ছে, পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং পুরো প্রকল্পের কাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এনামুল হক এনাম বলেন, কোনো চোর-ডাকাত বা সন্ত্রাসীর স্থান আমার দলে নেই। রিপন অপরাধে জড়িত থাকলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিক। আমার নাম বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় আমি নেব না, দলও নেবে না। এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা বলেন, শ্রীমাই খালে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সহকারী কমিশনার রয়া ত্রিপুরা। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগেও আমরা অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করেছিলাম। যদি পুনরায় এমন কাজ হয়ে থাকে তবে জড়িতদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন ইউএনও ফারহানুর রহমান।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন বলেন, ইজারাবিহীনভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হাইদগাঁও এলাকার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। সরকার যেখানে শতকোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ করছে, সেখানে অসাধু বালু সিন্ডিকেট খাল থেকে বালু তুলছে। এতে খালের পার ভেঙে কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে। জানতে চাইলে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আবসার উদ্দিন সোহেল বলেন, এস. এম. রেজা রিপন বর্তমান যুবদলের কমিটির কেউ নন।
তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুবদলের নাম ব্যবহার করতে পারেন। সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় প্রতিদিন খালের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পৌর সদরের ৭ নং ওয়ার্ডের বাহুলী এলাকায় প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগে সিন্ডিকেটের লোকজন রাতের আঁধারে খাল থেকে বালু তুলে ডজনখানেক ট্রাকে সেই বালু পরিবহন করছে। বালুবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
কথা হয় রফিক নামের একজন স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অসাধু চক্র আমাদের জমি নষ্ট করছে। তার অভিযোগ, প্রশাসন জানলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।
****শ্রীমাই খালে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর
ব্যবস্থা নেওয়া হবে
রয়া ত্রিপুরা
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পটিয়া***
**’সময়ের আলো **
নিউজ ডেক্স চট্টগ্রাম
