
লাইট হাউস কটেজ জোনে রোহিঙ্গা মোঃ রফিক উদ্দীন’র ‘মাদক ও দেহব্যবসার’ ত্রাস
নিজস্ব প্রতিবেদক.
কক্সবাজার কক্সবাজার পর্যটন এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লাইট হাউস ও কটেজ জোন এখন এক আতঙ্কের নাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানে মাদক ও অনৈতিক ব্যবসার সাম্রাজ্য গেড়েছে দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি রফিক। পরিচয় জালিয়াতি আর একাধিক বিয়ের মারপ্যাঁচে সে নিজেকে স্থানীয় প্রভাবশালী দাবি করলেও তার নেপথ্যে রয়েছে ইয়াবা ও মানবপাচারের অন্ধকার জগত।
কটেজ জোনে ‘সেফ হাউস’ ও অনৈতিক বাণিজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, লাইট হাউস এলাকার বেশ কিছু স্বল্পমূল্যের কটেজ এখন রফিকের প্রধান আস্তানা। পর্যটনের আড়ালে এসব কটেজকে সে ইয়াবার ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে।মোঃ রফিক উদ্দীন ক্যাম্প থেকে অসহায় রোহিঙ্গা নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এনে লাইট হাউস এলাকার কটেজগুলোতে অনৈতিক কাজে বাধ্য করছে। ইয়াবা ও গাঁজার বড় বড় চালানগুলো এই এলাকা থেকেই সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। রফিকের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী কটেজ জোনের অলিগলিতে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকে। মোঃ রফিক উদ্দীন একজন রোহিঙ্গা হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে। তার ইয়াবা সাম্রাজ্য রক্ষা করতে সে কৌশলে স্থানীয় ও ক্যাম্পভিত্তিক একাধিক বিয়ে করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বিয়েই সে করেছে তার ব্যবসার নিরাপদ রুট বা ‘কভার’ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। তার স্ত্রীরা প্রায়ই মাদকের বাহক (ক্যারিয়ার) হিসেবে কাজ করে থাকে।
বিগত কয়েক মাস কিছুটা নিস্ক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি রফিক এই জোনে আবারো ভয়াবহভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মোঃ রফিক উদ্দীন এখন এতটাই বেপরোয়া যে, তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে সে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।
লাইট হাউস এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কটেজ মালিক বলেন, মোঃরফিক উদ্দীন ও তার বাহিনী পুরো কটেজ জোন নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। মাদক আর দেহব্যবসার কারণে সাধারণ পর্যটকরা এখন এই এলাকায় আসতে ভয় পায়। আমরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল আছে। রফিক নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই কটেজ জোন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
বাংলা ক্রাইম নিউজ অনুসন্ধান রিপোর্টের ২য় পর্বে দেখুন…….
* পরিচয় জালিয়াতি ও অপরাধের আড়ালে ‘রোহিঙ্গা রফিক’
* শ্বশুরকে পিতা সাজিয়ে বানিয়েছেন এনআইডি!
* মাদক সিন্ডিকেট, নারী পাচার ও বহুবিবাহের মাধ্যমে গড়েছেন ত্রাসের রাজত্ব। এসব এর বিস্তারিত নিয়ে আসছে।